রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নেতাকর্মীরা দেশেই ছিলেন, মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি : শফিকুর রহমান সোনারগাঁয়ে প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার-৫ শার্শায় বিজিএমইএ বিশ্ব বিদ্যালয়ের আয়োজনে মতবিনিময় সভা সেনাবাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে হেরোইন ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার-১ খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের আলোচনা ও প্রীতিভোজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু আমি চাই এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সবাই কথা বলবে- রাজিব আহসান নাগরপুরে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনীয় মিছিল জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরের দিনব্যাপি কর্মশালা শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তির্যক মন্তব্য ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারের জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরের দিনব্যাপি কর্মশালা

যশোরে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব

মিরাজুল কবীর টিটো / ৪৮
Update Time : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

এয়োদশ সংসদ নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। যশোর জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার সকালে কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ প্রস্তাব রাখেন কমিটির সদস্যরা।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন- নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিবাদীদের সময় অনেকেই অস্ত্র পেয়েছে। তেমন কেউ জমা দেয়নি। কারা অস্ত্র বহন করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে সংসদ নির্বাচনের সময় সন্ত্রাসীরা বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অনেক ডিসপ্যারেট ব্যক্তি এর আগে নির্বাচন করেছে। তারা সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ করে। এসব ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন- মাঠ পর্যায়ে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল নিরপেক্ষ নির্বাচন। সে উদ্দেশ্য পূরণ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে প্রশাসনের উচিৎ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নেয়া। সেই সাথে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসুল বলেন- নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে। কিছু সন্ত্রাসীর কারনে গ্রামে মানুষের মাঝে ভীতি কাজ করছে। যারা ভীতি সৃষ্টি করছে, সেটা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে। সেই সাথে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন বলেন- যখন নির্বাচন আসে, তখনই সনাতন ধর্মের মানুষ আক্রান্ত হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ নিভর্য়ে ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন- যশোরের অনেক ইউনিয়নে সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। প্রার্থীরা আতঙ্কে রয়েছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন- সাত থেকে আট মাস ধরে দেখি সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সমাধানের জন্য কোন তৎপরতা পাইনি। অস্ত্র উদ্ধার, রাস্তায় পরিবহন থামিয়ে রাখা বন্ধ, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। আলোচনার মধ্যে না থেকে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা বলেন- নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় ২ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। আমরা যশোরের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলাতে মাইকিং করে নির্বাচন পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক যে আচরণ ও নীতিমালা রয়েছে সে অনুযায়ী প্রার্থী প্রচারণার পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন নামিয়ে ফেলতে স্ব স্ব প্রার্থীকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন- যশোরকে পরিবর্তন করতে কাজ করতে চাই। এমপি প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সামগ্রিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। যশোরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি রাতে ২০টি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী করা হচ্ছে। সেই সাথে নিরাপত্তা দিতে ২৫০ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। মোটরবাইকে হাইড্রনিক সাউন্ড ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে, সেগুলো আটক করা হবে। ছাড়ানোর জন্য কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। ইতিমধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন- গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন কাজ করছে। নির্বাচনের আগে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হবে। নির্বাচন বানচালের জন্য যত চেষ্টা করা হোক না কেন কঠোর ভাবে প্রতিরোধ করা হবে। শহরের যানজট নিরসনে পৌর প্রশাসক প্লান কের পদক্ষেপ নেবেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সহসভাপতি নূর ইসলাম, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category