পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকে হঠাতে সারা দেশের মতো নেত্রকোনার মদনে জুলাই-আগষ্ট আন্দোলন করে ছাত্র জনতা। তাদের প্রতিহত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে। পুলিশও ৩৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ সময় বিক্ষোভদ্ধ ছাত্র জনতা পুলিশের দুটি গাড়ী ভাংচুর করে। এ ঘটনার পর ২৪ সালের জুলাই মাসে পুলিশ বাদী হয়ে ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।আন্দোলনে পুলিশ সহ প্রায় শতাধিক ছাত্র জনতা আহত হয়।
সাঈদ বিন ফজল নামের এক আন্দোলনকারী সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়াকে প্রধান আসামী করে গত বৃহস্পতিবার মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এজহারে এসিল্যান্ড, থানার ওসিসহ পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ১৫০ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০০জনকে আসামী করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাসনাত জামান আমি নতুন যোগদান করেছি। এখনও আমি পায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মদন উপজেলায় ছাত্র জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেন। ১৮ জুলাই মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিল আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি মদন উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে পুলিশ, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার উপর হামলা করে। এসময় পুলিশ ৩৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশ সহ শতাধিক আহত হয়। এই আন্দোলনে কয়েকজন চোখ হারিয়েছে। অনেকের শরীরে শত শত বুলেট এখনও বিদ্ধ রয়েছে। আহতদের মধ্যে সাঈদ বিন ফজল ও একজন। তিনিও দীর্ঘদিন যাবত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এ ঘটনায় চলতি বছর ৪ডিসেম্বর মদন উপজেলা সাবেক ইউএনও শাহ আলম মিয়া কে প্রধান আসামী করে করা হয়। এতে সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ, মদন থানার সাবেক ওসি উজ্জ্বল কান্তি সরকার, উপজেলা চেয়ারম্যান ইফতেখারুল আলম খান চৌধুরী আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান তালুকদার শামীম, পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম সাইফসহ ১৫০জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এজহারে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০জনকে আসামি করা হয়।
সুষ্ঠু বিচার দাবী করে অভিযোগকারী সাঈদ বিন ফজল বলেন, ছাত্র জনতার উপর হামলার মূল হোতা মদন উপজেলার সাবেক ইউএনও শাহ আলম মিয়া। তার নির্দেশে পুলিশ হামলা করে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাতে তার অফিসে মিটিং করে ছাত্র জনতাকে প্রতিহত করার অপচেষ্টা করে।
প্রধান অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক বুঝতে পেরে কথা বলেন নি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেন নি।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, থানায় নতুন ওসি এসেছে। অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে।