মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনায় জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে মব সহিংসতা (গণপিটুনি), অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা রোধে কার্যকর জবাবদিহিতা এখনো দৃশ্যমান নয়। এছাড়া ডিজিটাল নজরদারি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।
বক্তারা গত এক বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ।”
মানববন্ধন থেকে মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং লঙ্ঘনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “জন্মগত মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই মানবাধিকার। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক সংকটের কারণে মানবাধিকার চর্চা ব্যাহত হচ্ছে।”
ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। একইসঙ্গে মানবাধিকারকে শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব না ভেবে এটি রক্ষায় নাগরিক সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।