ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে খামার ঈদগাহ দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে ‘গোপনীয়তা ও অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সুপার মামুনুর রশীদ।
তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সংবাদ প্রকাশ করে আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতি নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচনী তফসিল অনুসারেই কমিটি গঠনের সব কাজ স্বচ্ছতা ও বিধিমোতাবেক সম্পন্ন হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক ২৫–২৬–২৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা ও উত্তোলনের সময় নির্ধারিত ছিল।
৩০ নভেম্বর যাচাই–বাছাই শেষে ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়।
মাদ্রাসার সহকারী সুপার সানাউল্লাহ জানান, শিক্ষক প্রতিনিধিসহ সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়মে ও সকলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সম্পন্ন হয়েছে। নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টাঙানোর মাধ্যমে অভিভাবকেরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিজা ও তিশাসহ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষকরা তাদের নির্বাচনের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং তারা তাদের অভিভাবকদেরও তা জানায়।
তাদের মতে, কমিটি গঠনের কাজ কোনো গোপনীয়তা ছাড়াই উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে এবং কোনো অনিয়ম ঘটেনি।
মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশীদ আরও বলেন, “খামার মাদ্রাসার আবাদি জমিগুলো সঠিক নিয়মে লিজ প্রদান করে সেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। গাছ কাটার অভিযোগটিও মিথ্যা। গাছের কাঠ দিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যারা অভিভাবক পরিচয়ে অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের অনেকেই প্রকৃত অভিভাবক নন এবং তফসিল ঘোষণার পরে কেউই মাদ্রাসায় এসে খোঁজ নেননি।
মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে তফসিল সাঁটানো ছিল—তারা না দেখেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
গোপনে কমিটি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, “আমরা উন্মুক্ত তফসিল প্রকাশ করে নির্বাচনের সব কাজ সম্পন্ন করেছি। শিক্ষক প্রতিনিধি ও দাতা প্রতিনিধি যথাযথ নিয়মে নির্বাচন করা হয়েছে।”
মাদ্রাসা সুপার মামুনুর রশীদ আরও বলেন, “আমরা সঠিক নিয়মে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করেছি। অভিভাবকরাও অবগত ছিলেন বলেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।”
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর (যিনি ৫ আগস্টের পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন) বলেন,
“সভাপতি হওয়ার পর আমি মাদ্রাসায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছি। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে যে আমি সুপারের দ্বারা গোপনে কমিটি করছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনিয়মের খবর সম্পূর্ণ মনগড়া ও বানোয়াট। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমার ভালো কাজ দেখেই কুচক্রী মহল এসব গুজব রটাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, হরিপুর উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও অত্র মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ নিজে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে কার্য সম্পাদনের অনুমতি দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে কাজটি গোপনে হয়নি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শেষে তিনি জানান,
“আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে তফসিল ঘোষণা করেছি। এখানে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন বা অনিয়ম ঘটেনি।”