ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে খামার ঈদগাহ দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা ‘গোপনীয়তা’ ও ‘অনিয়মের’ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সুপার ও সভাপতি জানান, নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করা হয়েছে এবং সব কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও বিধিমোতাবেক।
মাদ্রাসা সূত্র জানায়, ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ নভেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি-সমগ্র প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনসহ অন্যান্য কার্যক্রম আলোচনা ও নিয়ম মেনে করা হয়েছে। নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে অভিভাবকদেরও অবহিত করা হয়। ফলে অভিভাবকরা যথাযথভাবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পেরেছেন।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামতও একই—তাদের ভাষ্য, নির্বাচন সংক্রান্ত সব তথ্য আমরা পেয়েছি। শিক্ষকরা ক্লাসে জানিয়েছেন, আমরা অভিভাবকদের জানিয়েছি। গোপন কিছুই হয়নি।মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশীদ অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন-মাদ্রাসার আবাদি জমি আইন অনুযায়ী লিজ দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আমরা উন্নয়ন করেছি। গাছ কাটার ঘটনাও ভুল ব্যাখ্যা-সেই গাছ থেকেই মাদ্রাসার আসবাব তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
যারা অভিযোগ করছেন, তাদের অনেকেই প্রকৃত অভিভাবক নন। কমিটি গঠনের কাজ আমরা প্রকাশ্য তফসিলের মাধ্যমে করেছি। গোপনে কিছু করার প্রশ্নই আসে না।”মাদ্রাসার নবনিযুক্ত সভাপতি আলমগীর জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মাদ্রাসার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তার ভাষায়,
আমার কাজ দেখে একটি কুচক্রী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে গুজব ছড়াচ্ছে যে আমি সুপারের সহায়তায় গোপনে কমিটি করছি।
তিনি আরও বলেন,
কমিটি গঠনের কাজ পুরোপুরি বিধি মেনে হয়েছে। তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং দাতা প্রতিনিধি সবাই নির্বাচিত হয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়া ছিল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে।
তিনি জানান, হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ নিজেই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে গোপনে কিছু করার সুযোগই ছিল না।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ম্যানেজিং কমিটি গঠনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার ঘটনা ঘটেনি। বরং একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সমগ্র প্রক্রিয়া ছিল নির্ধারিত তফসিল, নিয়ম ও প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী-যা অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণভাবে অসত্য প্রমাণ করে।