রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কাচারিপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ভয়ঙ্কর ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান চালিয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালভিত্তিক এ অভিযানে ১০০ মণের বেশি পচা ও ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়।
কারখানায় যা পাওয়া যায়
‘কামুর দোজালি গুড় কারখানা’তে পুরোনো পচা গুড়ের সঙ্গে নিম্নমানের চিনি, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ইউরিয়া সার এবং সালফার-ম্যাগনেশিয়াম সার মিশিয়ে গুড় উৎপাদন করা হচ্ছিল। পুরো কারখানায় ছিল অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ।
জব্দ–ধ্বংস করা উপকরণ
১০০ মণের বেশি পচা ও ভেজাল গুড়
৩৪ বস্তা চিনি
২০ কেজি হাইড্রোজ
২০ কেজি ফিটকিরি
১ বস্তা ইউরিয়া সার
২০ কেজি সালফার-ম্যাগনেশিয়াম সার
আইনি ব্যবস্থা
কারখানার মালিক অভিযানের সময় পলাতক থাকায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৩ ও ২৫ ধারায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. তৈয়বুর রহমানসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয়রা বলেন, “প্রতিবছরই ভেজালের এমন কারখানা ধরা পড়ে, কিন্তু দোষীদের শাস্তি হয় না। রাজবাড়ী জেলায় আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।”
স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গুড়ে ব্যবহৃত হাইড্রোজ, ইউরিয়া, ফিটকিরি ও শিল্প সারের মতো উপাদান কিডনি, লিভার, পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারঝুঁকি বাড়ায়।
সচেতনতার পরামর্শ
বিশ্বস্ত উৎস থেকে গুড় কেনা, গন্ধ বা রঙ অস্বাভাবিক হলে তা এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক পণ্যের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।