চট্টগ্রাম বন্দরের নামে যারা আজ তথাকথিত “দেশপ্রেমের” মুখোশ পরে আন্দোলন করছে— তারা দেশের স্বার্থ নয়, বরং নিজেদের দুর্নীতি ও লুটপাটের সাম্রাজ্য রক্ষা করতেই বেশি ব্যস্ত।
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ বিভাগে লিফট কেনাকে কেন্দ্র করে যে ভয়াবহ দুর্নীতির ছবি উঠে এসেছে—তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
১৮ লাখ টাকার লিফট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে!
এটা কি দেশপ্রেম? নাকি বন্দরকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে লুট করার লাইসেন্স?
যারা আজ বিদেশিদের হাতে বন্দর গেলে নাকি দেশের ক্ষতি হবে—এমন ভুয়া প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের আসল উদ্দেশ্য এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষই বুঝে গেছে।
বছরের পর বছর ধরে তারাই বন্দরকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বানিয়ে রেখেছে। এখন নিজেদের কমিশন, ঘুষ, চাঁদাবাজি ও সুবিধা বাঁচাতে আন্দোলনের নামে মহানাটক করছে।
আজ লিফট—কাল অন্য কিছু—চট্টগ্রাম বন্দরের যেখানে যেখানে দুর্নীতি হয়েছে, সব একটির পর একটি তুলে ধরা হবে।
বন্দরের যেসব সেক্টরে দুর্নীতিঃ
নিচের বিভাগগুলোতে বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতি, কমিশন খাওয়া, ফাইল আটকে রাখা, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি—সব চলছে।
১️⃣ ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্ট
লিফট কেনায় কোটি টাকার লুট
প্রকল্প মূল্যায়নে অতিরিক্ত বিল
রক্ষণাবেক্ষণে অযৌক্তিক খরচ

মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট
যন্ত্রপাতি কেনায় অস্বাভাবিক বাজেট
একই যন্ত্রপাতি বারবার “কনডেমড” দেখিয়ে নতুন কেনা
স্পেয়ার পার্টসের নামে কোটি টাকা ব্যয়

স্টোরস / সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট
প্রয়োজনের বাইরে পণ্য ক্রয়
কমদামে কিনে বেশি দামে দেখানো
লুকানো টেন্ডার, ভেতরের চক্রের কমিশন

ট্রাফিক ডিপার্টমেন্ট
ট্রাক মুভমেন্ট, ডেলিভারি শিডিউল, গেটপাসে ঘুষ-দুর্নীতি
অগ্রাধিকার সুবিধা দিতে মোটা অঙ্কের ঘুষ
কনটেইনার ডেলিভারিতে ইচ্ছাকৃত দেরি করে সুবিধা আদায়

সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট
গেট কন্ট্রোল, প্রবেশ-প্রস্থান, ভেরিফিকেশন—সব জায়গায় ঘুষের প্রভাব
অনুমতি ছাড়াই পণ্য বের করে নেওয়া
ভিআইপি সুবিধা দেওয়ার নামে অঘোষিত “রেট”

টেন্ডার ও প্রকিউরমেন্ট সেক্টর
ইচ্ছাকৃতভাবে একই চক্রকে টেন্ডার দেওয়া
দরপত্র সাজিয়ে দেওয়া
বিল-অডিটে দীর্ঘসূত্রতা দেখিয়ে কমিশন নেওয়া