নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের রামদেবপুর ওসমান খলিফার বাড়িতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩ নারীসহ ৪ জন আহত হয়। আহতরা হচ্ছেন মরিয়ম বেগম (৫০) সুমাইয়া আক্তার (১৯) ও এ কে এম আব্দুল্লাহ (৫৫), সুইটি ইসলাম (২৮)। এই ব্যাপারে মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে গত বৃহস্পতিবার সকালে চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী সুইটি ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে একই দিন দুপুরে চাটখিল থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মরিয়মের অভিযোগে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী সুইটি ইসলাম তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। তখন মরিয়ম প্রতিবাদ করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী সুইটি ইসলাম (৩০), দেলোয়ার হোসেন এর ছেলে আরিফ হোসেন (২৩) রিয়াদ হোসেন এর স্ত্রী হামিদা আক্তার (২৩) ও তারেক এর স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩০) মরিয়ম বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এরপর মরিয়মের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী এ কে এম আব্দুল্লাহ (৫৫) এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারধর করে গুরুতর আহত করে। এসময়ে আরিফ হোসেন মরিয়মের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের গায়ের জামাকাপড় টেনেহিঁচড়ে তার শ্লীলতাহানি করে।
অন্যদিকে সুইটি ইসলামের অভিযোগে জানা যায়, মরিয়মের স্বামী জয়াগ রশিদিয়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল এ কে এম আব্দুল্লাহ সুইটি ইসলামের শ্লীলতাহানি করে তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কিছুক্ষণ পর এ কে এম আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী মরিয়ম ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার তার উঠানে এসে তাকে হামলা করে মারধর করে আহত করে এবং তার পায়ের একটি নখ উল্টিয়ে ফেলে।
এদিকে গত শুক্রবার বিকেলে মরিয়মের ভাই আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও তার স্বামী এ কে এম আব্দুল্লাহ চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযোগ কপি প্রেরণ করে বলেন, এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার বড় দুলাভাই এ কে এম আব্দুল্লাহ ও আমার বোন মরিয়ম বেগম ও ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে তারই বড় ভাইয়ের স্ত্রী সুইটি ইসলাম। এ সময় এ কে এম আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের কাছে তিনি সহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
থানায় দু’পক্ষের দায়ের করা অভিযোগ দুইটি তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই টুটুন মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি ঘটনা তদন্তের বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি তারা পরস্পর পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের কথা-কাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে সুইটি ইসলাম এ কে এম আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার যে অভিযোগ এনেছেন তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।