বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ১০৮তম রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লববার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় সৈয়দ আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী শম্পা বসু। প্রধান বক্তা ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম আসাদ এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শিক্ষাবিদ কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শাখার সদস্য সচিব ভবতোষ বিশ্বাস জয়।
প্রধান বক্তা কমরেড নিখিল দাস বলেন, স্বাধীনতার পর বারবার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসন বিদায় হলেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট করছে। শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব ও চিকিৎসা ব্যয়সহ মৌলিক ইস্যু উপেক্ষিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসন অতীতের স্বৈরশাসনের মতোই বাড়ছে। বন্দর ইজারা, কথিত মানবিক করিডোর, অস্ত্র কারখানা ও মহাকাশ যোগাযোগ চুক্তির নামে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা থাকলেও বিভিন্ন মহলে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও উল্লেখ করে তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তফসিল ঘোষণার দাবি করেন।
সভায় ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ওই বিপ্লব শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র গঠনের মাইলফলক। মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে সোভিয়েত রাষ্ট্র শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে বিশ্বে অগ্রগামী অবস্থায় পৌঁছে। তারা বলেন, ’৭১, ’৯০ ও ’২৪ সালের গণআন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষ বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখলেও নেতৃত্ব সংকটে প্রতিবারই লুটেরাগোষ্ঠী আন্দোলনের ফসল কেড়ে নিয়েছে।
স্থানীয় দাবি হিসেবে মাগুরায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, বেকার সমস্যা সমাধান, মাগুরা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, সদর হাসপাতালে সিটি স্ক্যান–ইসিজি মেশিন, আইসিইউ ব্যবস্থা ও ডাক্তার-নার্স সংকট দূর করে পূর্ণাঙ্গ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে কমরেড নিখিল দাস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–১ আসনে বাসদের প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসুকে ‘মই’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।