আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কার কারণ নেই এবং সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই এই নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। রোববার সকালে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো ইস্যু নেই। অবশ্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার, করা হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলগুলো একে অপরের ওপর এবং উপদেষ্টাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নানা কথা বলে থাকে, যার কিছু হয়তো সত্য। এসব কথার কারণে জনমনে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। আইন উপদেষ্টা বলেন, “পাঁচ কোটির বেশি মানুষ কখনো ভোট দিতে পারেনি, এটা তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।”
বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জামিনের বিষয়ে আদালতের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামিন পাওয়া শুধু বিচারকের ওপর নির্ভর করে না, পুলিশের রিপোর্টের ওপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে। তবে যারা জামিন পেয়ে একই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হতে পারে বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, তাদের জামিনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আদালতে মামলার চাপ কমাতে এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “একজন বিচারকের জায়গায় আদালতে তিনজন বিচারক দেয়া হচ্ছে, যাতে আদালতে মামলার চাপ কমে। আদালত সংস্কারে আমরা নানান উদ্যোগ নিচ্ছি। এর সুফল জনগণ অবশ্যই পাবে।”
রাজশাহী ও নাটোরে দুই দিনের সফর শেষে আইন উপদেষ্টা রোববার সকালেই ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করেন। এর আগে শনিবার তিনি রাজশাহীর একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করলেও সেদিন নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।