রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ওসমান হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে আদমদীঘি উপজেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল বীরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা গোয়ালন্দে খোলা ট্রাকে বালু-মাটি পরিবহন, ধুলা-বালুর দাপটে নাকাল সাধারণ মানুষ জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গোয়ালন্দে ওয়েটস্কেল অনিয়ম ইউএনও বরাবর এলাকাবাসীর অভিযোগ তরমুজ চারা নষ্ট করে কৃষকের সাথে এ কেমন শত্রুতা ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন্সে সুপার স্পেশাল ‘কিট প্যারেড’ পরিদর্শনে এসপি, ঝিনাইদহ ক্মাঠালিয়ায় মাদকবিরোধী কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে সড়কে প্রাণ গেল অটো চালকের, আহত তিন যাত্রী ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদীর বাসায় চুরির ঘটনা

অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদের ওপর অত্যাচার যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত

Aminur Rahman / ৮৬
Update Time : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ার ভৈরব নদের ওপর অত্যাচার যেন থামছেই না। এটা অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।  অপরিকল্পিত নদী ড্রেজিং, অবৈধভাবে ঘাট নির্মাণ, দূষণ, দখল এবং ঘাট মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই থামনো যাচ্ছে না। প্রতিবছর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) উচ্ছেদের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ জেটি নির্মাণ। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একই স্থানে আবারও নতুন করে তৈরি হচ্ছে অবৈধ জেটি।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় মাটি ভরাট করে অবৈধ জেটি নির্মাণের ফলে স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হয়ে পলি জমে ভরাট হচ্ছে ভৈরব নদের তলদেশ। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে নওয়াপাড়া বন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভৈরব নদে শতাধিক জেটি রয়েছে। ঘাট মালিকরা কেবল নদী ভরাট করে জেটি নির্মাণ করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছেন না। অবৈধ এসব জেটির কারণে স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হয়ে জেটির চারপাশ ভরাট হচ্ছে। এরপর সেখানে একটু একটু করে মাটি, বালু, ছাই ফেলে বাড়ানো হচ্ছে জেটির সীমানা। দখলদারদের এমন কর্মকাণ্ডে দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে ভৈরব নদ।
এখনই ভাটার সময় ভৈরব নদে কার্গো জাহাজ চলাচলে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চালকরা। একাধিক বার্জ ও কার্গো জাহাজের চালক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে চিরতরে দখল বন্ধ করা না গেলে নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে অচিরেই কার্গো জাহাজ ভেড়ানো দুষ্কর হয়ে যাবে। পরিস্থিতি এমন হলে মুখ থুবড়ে পড়বে এ নদীবন্দর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়ী মোকাম নওয়াপাড়া নদীবন্দরে কর্মকাণ্ড থমকে গেলে পথে বসবে শতশত ব্যবসায়ী। বেকার হয়ে পড়বে ১৭ হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক। কেবল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নয়, পরোক্ষভাবে বন্দরের সঙ্গে যুক্ত মোটরশ্রমিক ও ব্রোকার ইউনিয়নের শ্রমিকরাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভেঙ্গে পড়বে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। দেখা দেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতর অবনতি। ফলে নদী দখলদারদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারী ঘাট মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ কে নদী বাঁচাতে অচিরেই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের দাবি তুলেছে সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, নওয়াপাড়া নদীবন্দরকে সচল রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী সপ্তাহেই অবৈধ জেটি নির্মাণকারী ঘাট মালিকদের স্ব-উদ্যোগে তাদের জেটি উচ্ছেদের জন্য নোটিস করা হবে। আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে স্ব-উদ্যোগে এ সব অবৈধ জেটি অপসারণ করা না হলে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।এবার আগের মতো কেবল উচ্ছেদ নয়; পাশাপাশি অবৈধ জেটি নির্মাণকারীদের মোটা অংকের জরিমানা করে তা আদায় করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category