যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। গত দেড় বছরে ১৫ জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। স্থবির হয়ে পড়ছে নৌবন্দরের অর্থনীতি। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌ-বন্দর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর হিসেবে পণ্য পরিবহনে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে নাব্যতা সংকট, নদী দখল, সরু চ্যানেল ও জাহাজের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্দরটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত দেড় বছরে এখানে ১৫টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। সূত্র জানায়, নৌবন্দর মুজতখালী থেকে আফরাঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। এ সময়ে বন্দরে ২ হাজার ৫১৯টি জাহাজে মোট ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টন পণ্য এসেছে। এসব থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৬ টাকা। কিন্তু নদীর গভীরতা ক্রমেই কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যমতে, নওয়াপাড়ায় জাহাজডুবির চারটি প্রধান কারণ হলো- নিয়মিত খনন না হওয়া, নদী দখল ও চ্যানেল সংকোচন, অদক্ষ মাস্টারদের ভুল নোঙর, পুরনো জাহাজের সময়মতো মেরামত না করা। জানা যায়, গত দেড় বছরে সংঘটিত কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ৯ই ফেব্রুয়ারি শুভরাড়া এলাকায় ৮৫০ টন ইউরিয়া বোঝাই এমভি সেভেন সিজ-৪ ডুবে যাওয়া; ১৩ই এপ্রিল নোনা ঘাট এলাকায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার কয়লাসহ এমভি সাকিব বিভা-২ ডুবি; ২৫শে জানুয়ারি সিদ্দিপাশায় ৭০০ টন গম বোঝাই এমভি ওয়েস্টার্ন-২ কাত হয়ে ডুবে যাওয়া। এ ছাড়া, ১৫ই ডিসেম্বর এমভি আর রাজ্জাক, ১৫ই জানুয়ারি এমভি পূর্বাঞ্চল-৭ ও ১৩ই জানুয়ারি এমভি মৌমনি-১ ডুবে যায়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার সদস্য সচিব নিয়ামুল ইসলাম রিকো বলেন, নওয়াপাড়া নদী কেন্দ্রিক বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও নদীর নাব্যতা ক্রমেই কমছে। পানি কমতে কমতে নদী ছোট হয়ে আসছে। ফলে দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে নওয়াপাড়া নদীবন্দর উপ-পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভৈরব নদে নাব্য সংকট মোকাবিলায় ড্রেজিং চলছে। ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোর বেশির ভাগই পুরাতন এবং নিয়মিত মেরামত করা হয়নি। তবে বন্দরের উন্নয়নে সরকার বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। স্থায়ী সীমানা পিলার স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি জাহাজ ভিড়তে পারবে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।