রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গান্ধীমারা এলাকায় কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২৫) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। জীবিকার তাগিদে কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনে পথে বের হওয়া মানুষকে কেন এভাবে প্রাণ হারাতে হবে—এ প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের।
সোমবার (২২ জুন) ভোরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। নিহত আব্দুল্লাহ পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ী গ্রামের বাসিন্দা। প্রবাসী এক স্বজনকে আনতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে তার জীবনের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অসচেতনতা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না।
সড়ক শুধু যানবাহনের চলাচলের পথ নয়, এটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অন্যথায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারাবে।
আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং আহত ব্যক্তির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—সড়কে মৃত্যুমিছিল বন্ধে এখনই দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মানুষের জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি প্রাণের মূল্য অপরিসীম।





