ঈদের ছুটি আছে, রাস্তা আছে, ঘরমুখো মানুষের ভিড়ও আছে, কিন্তু বেতন নেই।
আর ঠিক এই জায়গাতেই সাভারের শ্রমিকের চাপা ক্ষোভ বেরিয়ে এল মহাসড়কে।
আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে এনার্জিপেক নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সোমবার (২৫ মে) বেলা ১১টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি তৈরি হয়। পরে শিল্প পুলিশের আশ্বাসে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এপ্রিল মাসের বেতন এখনো বাকি, আর কয়েক দফায় আশ্বাস দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ সেটি পরিশোধ করেনি। শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সাভারের জন্য এই দৃশ্য নতুন না, কিন্তু প্রতিবারই একই সত্য সামনে আসে, ঈদের আগে শ্রমিকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছুটি না, বেতন। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যখন ঘরমুখো মানুষ রওনা দিতে প্রস্তুত, তখন শ্রমিকরা রাস্তা আটকে বসে থাকেন কেবল একটি প্রাপ্য টাকার জন্য। এটা শুধু আন্দোলন নয়; এটা সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
বেতন বকেয়া থাকলে ঈদের আগে শ্রমিকের ঘরে উৎসব ঢোকে না, ঢোকে অনিশ্চয়তা।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবার আশ্বাস দিলেই সমাধান হয় না; বাস্তব পরিশোধ না হলে ক্ষোভ জমেই থাকে।
তৃতীয়ত, সাভার-আশুলিয়ার মতো ব্যস্ত শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানার সংঘাতও মুহূর্তে মহাসড়ক, পরিবহন ও সাধারণ যাত্রীর ওপর আঘাত করে।
শ্রমিকের বেতনকে “পরে দেব” বলা মানে পুরো এলাকার সামাজিক স্থিতি ঝুঁকিতে ফেলা। সাভারে শ্রমিকের হাতে টাকা না গেলে স্থানীয় বাজার, ভাড়া, যাতায়াত, এমনকি ঈদের প্রস্তুতিও থমকে যায়। তাই বেতন, বোনাস ও বন্ধ কারখানার হিসাব শুধু মালিক-শ্রমিকের ব্যাপার না; এটা সাভারের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। এটা প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে আমার বিশ্লেষণ।
ঈদের আগে বেতন আটকে রাখা মানে শ্রমিককে অপমান করা। আর অপমান জমতে জমতে একসময় তা সড়কে, মহাসড়কে আর জনভোগান্তিতে ফিরে আসে। সাভার-আশুলিয়ায় স্থায়ী সমাধান চাইলে এখনই বেতন পরিশোধ, স্বচ্ছ যোগাযোগ আর শ্রমিক-ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা দরকার।






