লোহাগড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও চাঁদা দাবি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার এক নৃশংস ও বর্বর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জেরে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ও অপমানে ওই শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার স্থানীয় কয়েকজন বখাটে ও প্রভাবশালী চক্র ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি নির্জন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।
​ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি, অভিযুক্তরা ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। সেই সাথে হুমকি দেয় যে, এই বিষয় নিয়ে যদি কোনো ধরনের মুখ খোলা হয় বা প্রশাসনকে জানানো হয়, তবে ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক/ইউটিউব) ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
​লোকচক্ষুর অন্তরালে ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে পরিবারটি যখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল, তখন বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থী চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
লোকলজ্জা ও তীব্র ক্ষোভে-অপমানে সে বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
​এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো নড়াইল জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার সাথে জড়িত বখাটেদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​লোহাগড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখনো চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন