দেশমাতৃকা ও বিশ্বজননীর সকল সন্তানের মঙ্গল কামনায় মাগুরার শালিখা উপজেলার ভাটপাড়া আশ্রম প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের ৩য় বার্ষিক ষোলকালীন লীলা কীর্তন। গত ৯ই বৈশাখ (২২ এপ্রিল) সোমবার শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আধ্যাত্মিক মহোৎসব ১২ই বৈশাখ মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ব্রাহ্ম মুহূর্ত থেকে শুরু হয় মূল লীলা কীর্তন, যা বিরতিহীনভাবে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় পর্যন্ত চলে। এবারের উৎসবে লীলা কীর্তন পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত কয়েকটি কীর্তনীয়া দল। এর মধ্যে ছিল বগুড়ার শ্রী হরি সম্প্রদায় (কুমারী নীলিমা রায় শুক্লা), জয়পুরহাটের কৃষ্ণ কেশব সম্প্রদায় (অনামিকা বর্মন), কুড়িগ্রামের কৃষ্ণ কাঙাল সম্প্রদায় (সীমারানী রায়) এবং ঢাকার মানিকগঞ্জের শিব ঠাকুর সম্প্রদায় (হিমাংশু সিকদার)। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে নগর কীর্তন, কুঞ্জভঙ্গ এবং শ্রীশ্রী মনমহাপ্রভুর ভোগরাগ শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ রবিউল ইসলাম নয়ন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আনিসুর রহমান মিল্টন, মোঃ মমতাজ উদ্দিন মোল্লা, সাইদুর রহমান শিকদার, মোঃ জিল্লুর রহমান, শ্রী প্রশান্ত বকশি, শিক্ষক ও ধারাভাষ্যকর শম্ভুনাথ মিত্র, সাংবাদিক নোয়াব আলী, তারিকুল ইসলাম, সুব্রত বিশ্বাস এবং সুবির ঘোষ প্রমুখ।
উৎসবটি সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আয়োজক কমিটির বাবলু কুন্ডু, মদন গোপাল, সীমান্ত কুন্ডু, তপন পাল, উত্তম পাল, তনয় পাল ও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস।
ভাটপাড়া আশ্রমের সেবাইত নিত্য গোপাল দাস বাবাজীর তত্ত্বাবধানে এবং কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের ‘দীন সেবকবৃন্দ’-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন হাজারো ভক্তের সমাগমে আশ্রম প্রাঙ্গণ এক স্বর্গীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তারা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।





