রাজবাড়ী জেলায় গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে দৌলতদিয়া পায়াকট বাংলাদেশ , কেকেএস , গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১টায় দৌলতদিয়া পায়াকট বাংলাদেশের সবুজ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩০ জন অসহায় যৌনপল্লী বাসিন্দা নারী ও শিশুদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল পোলাউ চাল ১ কেজি, গুঁড়ো দুধ ৫০ গ্রাম, সেমাই ১ প্যাকেট, চিনি ৫০০ গ্রাম এবং সয়াবিন তেল ১ লিটার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ তারিফ-উল-হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৌলতদিয়া কেকেএস সেফ হোমের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন, দৌলতদিয়া পায়াকট বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মজিবুর রহমান খান জুয়েল, দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মোছাঃ খাদিজা আক্তার, অবহেলিত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নেত্রী ফরিদা পারভীনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ তারিফ-উল-হাসান বলেন, “নারীদের উন্নয়ন ছাড়া একটি সমাজ কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে দৌলতদিয়া পল্লীর মেয়েরা আপনারা যারা কাজ করতে ইচ্ছুক তারা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে অনেক রকম কাজ আছে যেমন সেলাই ,এমব্রয়ডারি, ডিজাইনার, এ সকল কাজ করে আপনারা আপনাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। আপনারা সব সময় মাদককে বিরুদ্ধে কাজ করবেন কেউ কখনো মাদক সেবন করবেন না এবং কাউকে সেবন করতেও দিবেন না। এলাকায় বসবাসরত নারীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সবসময়ই আন্তরিক। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, “ঈদ সবার জন্য আনন্দের। কিন্তু সমাজের অনেক মানুষ রয়েছে যারা এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে এই ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে রয়েছে এবং আগামীতেও থাকবে।”
আয়োজকরা জানান, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।






