আনোয়ারায় ভবন থেকে পড়ে থানার দাগী আসামির মৃত্যু- সঙ্গীদের হাসপাতাল ভাংচুর

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে মো. মহিম (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর তার স্বজন ও সঙ্গীরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে জরুরি বিভাগের দরজা ভাঙচুর করে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাশেম কমপ্লেক্সের নিচ থেকে মহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, নিহত মো. মহিম কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. মহিম স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আনোয়ারা থানায় দাগী সন্ত্রাসী হিসেবে মহিমের নাম সম্মিলিত ছবি টাঙানো আছে। এর আগে চুরি ও ছিনতাই এর ঘটনায় তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় ৪টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ভবনটিতে শব্দ শুনে দারওয়ান বাইরে বের হয়ে দেখেন, একজন যুবক ভবনের ওপর থেকে মাটিতে পড়ে আছেন। পরে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে রাত ১০টায়ও ঘরে ছিল। তারপর কারও ডাকাতে ঘর থেকে বের হয়। সকালে খবর পাই আমার ছেলে ভবন থেকে মাটিতে পড়ে মারা গেছে।  আমার বিশ্বাস, আমার ছেলেকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সকালে পুলিশ নিহত মহিমকে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবরে তার সঙ্গী ও স্বজনেরা হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন। পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক যুবক জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করে।’
এবিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তার মৃত্যু ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুতে হাসপাতালে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন