ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিসিআইসির বাফার সার গোডাউনে লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খোলা আকাশের নিচে আটকে আছে অর্ধশতাধিক সার বোঝাই ট্রাক। লোড-আনলোড খরচ বাড়ানো ও ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে শ্রমিকদের কাজে নামতে না দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ডিলারদের।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে সরেজমিনে কালীগঞ্জ শহরতলীর বিসিআইসি বাফার গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, গোডাউন চত্বরে সার বোঝাই অর্ধশতাধিক ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এতে ট্রাকচালক ও ডিলাররা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কালীগঞ্জের কয়েকজন বিসিআইসি সার ডিলার জানান, সপ্তাহখানেক আগেও গোডাউনে সারবাহী ট্রাক পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই লোড-আনলোড করা হতো। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোড-আনলোড খরচ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার টন সরকারি সার ট্রাকেই পড়ে আছে।
শৈলকূপা উপজেলার সার ডিলার আবু জাফর বলেন, সার বোঝাই ট্রাক আটকে রেখেছে লোড-আনলোড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ তাদের এমন করার কোনো অধিকার নেই। উল্টো ট্রাকপ্রতি বাড়তি টাকাও দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি গোডাউন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও ছয় দিনেও কোনো সমাধান হয়নি।
যশোরের নওয়াপাড়া থেকে সার বোঝাই ট্রাক নিয়ে আসা চালক মেহেদী হাসান জানান, তিনি ছয় দিন ধরে ট্রাক নিয়ে গোডাউনের সামনে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, আমাদের খাওয়া-গোসলের ঠিক নেই। প্রতিদিন বসে থেকে ট্রাকপ্রতি দুজন মানুষের গড়ে ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হচ্ছে। বেতনও কম, তার ওপর গাড়ি ছয় দিন ধরে আটকে আছে।
আরেক ট্রাকচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের লোকজন লোড-আনলোড বন্ধ করে দিয়েছে এবং ডিসচার্জের গাড়িও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গোডাউনে অপেক্ষা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্য বিসিআইসির বাফার গোডাউন কালীগঞ্জে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের কারণে এখানে ইউরিয়া ও ফসফেটসহ সরকারি সার বাফারে না এনে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিলেটের শাহজালাল কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদ বলেন, তার জানামতে গোডাউনে কোনো ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কথা নয়। পরে গোডাউনের সামনে সার বোঝাই ট্রাকের ছবি পাঠালে তিনি জানান, কালীগঞ্জে কার্যক্রম দেখাশোনা করে রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক শাহাজান রোমা। বিষয়টি তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন।
রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাসুম পারভেজ বলেন, এখানে কোনো গাড়ি আটকানো হয়নি। কেন ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে আছে তা চালকরা বলতে পারবেন। শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে গোডাউনের সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. অহিদুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
ঝিনাইদহ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, কেন সার লোড-আনলোড হচ্ছে না তা জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে গোডাউনে পাঠানো হয়েছে। সরকারি গোডাউনে সরকারি সার আটকে রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।