চুয়াডাঙ্গার হাসাদহ বাজারে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন পরবর্তী রেষারেষির জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক সংঘর্ষে জামায়াত-বিএনপির উভয় পক্ষের ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমান (৪৫) ও তার ভাই হাফিজুর রহমানের (২৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে তাদের ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে রবিবার (১ মার্চ) রাত ১টার দিকে সেখানে হাফিজুর রহমান মারা যান।
সংঘর্ষে অন্যান্য আহতরা হলেন,জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫৫) ও মাহফুজ(২৮), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন(৬৫)।
আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন জানান, নির্বাচনের একদিন পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারী হাসদহের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান সুটিয়া গ্রামে যান। সে সময় ওই গ্রামের জামায়াত কর্মী সোহাগ, হাফিজসহ গ্রামবাসী তার ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরই জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সংঘর্ষে না জড়িয়ে উভয় পক্ষ বসে সমাধানের পথ তৈরি করতে পারতো।
এ ব‍্যপারে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর দেশী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত জখম ও আহত করেছে। এর তীব্র নিন্দা জানায়। দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সোলাইমান শেখ জানান, নির্বাচন পরবর্তী সুটিয়া গ্রামে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান, জামায়াত কর্মীদের হাতে আহত হন। তারই জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন