মাগুরায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবীর, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, জেলা চেম্বারের সভাপতি আখতার হোসেন, জেলা জিপি মনজুরুল হাসান, পিপি সাখাওয়াত হোসেন, মাগুরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ হোসেন এবং সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহশীন ফকির।
এ ছাড়া সভায় এনএসআইয়ের উপপরিচালক, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসিময়া আখতার রোজি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুকুজ্জামান ফারুকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, মাগুরা জেলাকে মানুষের বসবাসের উপযোগী ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূল, সামাজিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, মাগুরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান আটক এবং চুরি যাওয়া ও হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের মাধ্যমে পুলিশ অপরাধ দমনে কাজ করছে। তিনি অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে পুলিশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।





