ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, “এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে তবেই আপনারা ঘরে ফিরবেন।” তিনি দাবি করেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা একত্রিত হয়েছি জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও রেকর্ডিং ডিভাইস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, অতীতেও অন্যায় আড়াল করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। এখন আবার একই পথে হাঁটার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনগণকে স্পষ্ট বার্তা না দিলে নির্বাচন নয়, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
একটি পক্ষ পরাজয়ের আশঙ্কায় নির্বাচনকে ভিন্ন পথে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল, অস্ত্র মজুত ও গুন্ডা ব্যবহারের মতো অপকর্ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
ঢাকা-১৩ আসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও মামলা বাণিজ্যের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এসব থেকে তরুণদের উদ্ধার করে সংশোধনের মাধ্যমে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে নই, আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার কায়েম করতে চাই।” তাঁর দাবি, জনগণ অতীত দেখেছে এবং এবার শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যার প্রতিফলন আসন্ন নির্বাচনেও দেখা যাবে। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের কোনো দুঃসাহস করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।






