৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ইসলামপুর পৌর কাউন্সিলের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ বিএনপির ৭ নেতার বিরুদ্ধে

জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার এক কাউন্সিলের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে  বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, মারধর ও নারীকে লাঞ্ছনা করা অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সাত নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই কাউন্সিলরের নাম ছামিউল হক। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর বাড়ি পৌর শহরের
পলবান্ধা উজানপাড়া এলাকায়।
অভিযুক্তরা হলেন, ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান হাসমত, পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসান,
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহম্বায়ক আলী নূর ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী মো. সোয়াদ, সাবেক যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান রুকন এবং যুবদলকর্মী নুরুজ্জামান।
আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী কাউন্সিলর ছামিউল হকের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে বিএনপির পাঁচ নেতাসহ সাতজনের নামে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ২০-২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে আইনীত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর ছামিউল হকের কাছে সঙ্গে কয়েকদিন আগে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গত রবিবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের সময় উল্লেখিত বিএনপির নেতারাসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে ছামিউলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ করে। এতে বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ছামিউলের ছোটবোন শরিফা বেগমকে মারধর করা হয়। এ ছাড়া মারধর করে তাঁর ভাতিজার স্ত্রী মনিরা বেগমের গলায় থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী কাউন্সিলর ছামিউল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে উল্লেখিত বিএনপির নেতারা আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানি করার হুমকি দেয় তাঁরা। চাঁদা না দেওয়ায় এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আমার মা সাহেরা বেগম এবং ছেলে সম্রাট হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিন চিকিৎসা শেষে মাকে বাড়িতে আনা হয়। ওই ঘটনায় প্রাণের ভয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিইনি। পরে বাধ্য হয়ে তাঁদেরকে দুই দফায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছে।’
ছামিউল হক আরও বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরের আগের দিন আমার কাছে অভিযুক্ত বিএনপির নেতারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না না দিলে আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।’
কাউন্সিলর ছামিউল হকের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে না পেয়ে বাড়িঘরে ভাংচুরসহ লুটতরাজ করেছে। চাঁদাবাজদের হুমকিতে আমাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান হাসমত বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ করা হয়েছে। মূলত ছামিউলের বাড়িতে উচ্চমূল্যে পেট্রোল বিক্রি হওয়ার খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। ‘
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.  আব্দুল কাইয়ুম গাজী বলেন, কাউন্সিলর ছামিউলের স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, ‘কাউন্সিলর ছামিউলের পক্ষে চাঁদা দাবির বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন