রাউজানে ১৭০ পরিবারকে শাহ এমদাদীয়ার ঢেউটিন, বিবাহ সহায়তা ও ঈদ উপহার বিতরণ

“স্রষ্টার সকল সৃষ্টিকে সহায়তা করা ও ভালোবাসাই হচ্ছে প্রকৃত মানবতা”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে চট্টগ্রামের রাউজানে অসহায় ও হতদরিদ্র ১৭০টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, চাউল, বিবাহ সহায়তা, নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) শাহনগর, সাপলঙ্গা, ছত্রপড়া ও দলিলাবাদ দায়রা শাখার উদ্যোগে এই মানবিক কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন শাহ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারীর (ম.) অনুমোদনক্রমে এবং নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারীর নির্দেশনায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

 

শাহ এমদাদীয়া শাহনগর, সাপলঙ্গা, ছত্রপড়া ও দলিলাবাদ দায়রা শাখার সভাপতি মো. শফিকুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং কোষাধ্যক্ষ নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের যুগ্ম সচিব অধ্যাপক মেজবাউল আলম ভূঁইয়া।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) চট্টগ্রাম জেলা কার্যকরী সংসদের দারুত তায়ালীম সম্পাদক মাওলানা মো. সালাউদ্দিন, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক আব্দুল করিম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সুজন, চট্টগ্রাম মহানগর কার্যকরী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সোহেল চৌধুরী, রাউজান উপজেলা সভাপতি মো. ইউনুছ মিয়া, হাটহাজারী উপজেলা সভাপতি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী এবং ফটিকছড়ি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।

 

অনুষ্ঠানে ১৭০টি পরিবারকে গৃহ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, খাদ্য হিসেবে চাউল, অসহায় কন্যাদের বিবাহ সহায়তা এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া সমাজের অবহেলিত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘কবর খননকারীদের’ সম্মানে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মেজবাউল আলম ভূঁইয়া বলেন, “গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) ছিলেন মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর ত্বরিকার মূল শিক্ষাই হলো সৃষ্টির সেবা। আজকের এই আয়োজনে মুসলিমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষদেরও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা মাইজভাণ্ডারী দর্শনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ।”

 

অন্যান্য বক্তারা বলেন, “মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ের যাত্রায় যারা কবর খনন করে অবদান রাখেন, তাদের সম্মানিত করার বিষয়টি সত্যিই প্রশংসনীয়। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর জীবদ্দশায় দরবারে আসা উপঢৌকন বা ফতুহাত যেভাবে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন, সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় রয়েছে।”

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহনগর, সাপলঙ্গা, ছত্রপড়া ও দলিলাবাদ দায়রা শাখার জমিদাতা সৈয়দ মো. হায়দার আলী, দায়রা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা মো. এনাম, সহ-সভাপতি মো. সেলিম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিয়া, মিনার উদ্দিন, মাহাবু মাস্টার, শাহ আলম, শফি, সৈয়দ মিয়া এবং রমজান আলীসহ শাখার সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যবৃন্দ।

 

শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজনে সহযোগীদের ধন্যবাদ জানানো হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন