বান্দরবানে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযানের খবরে জনমনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বান্দরবান জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ মঊলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) রাত দশটার পর থেকে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুর রহমান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশ এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। অপরাধ দমনে পুলিশ সুপারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার অংশ হিসেবে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। বিশেষ এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসাশন) ফরহাদ সরদার। প্রথম দিনেই মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এবং কিশোর গ্যাং এর আড্ডাস্থল হিসেবে চিহ্নিত আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া ওয়াব্দাব্রীজসহ জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ প্রবন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। এতে সাদা পোশাকের পুলিশসহ প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। এসময় সোহেল ও আনিস নামে দুইজন কে আটকও করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফরহাদ সরদার বলেন, বান্দরবান জেলাকে মাদকমুক্ত একটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলবে। জেলা পুলিশের একটাই বার্তা অপরাধ এবং অপরাধীর শিকড় উপরে ফেলা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ফরহাদ সরদার। অভিযানকালে বান্দরবান সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহেদ পারভেজ, ওসি (ডিবি) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযানে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কনিষ্ট সদস্য ও সংবাদকর্মী লুৎফর রহমান (উজ্জ্বল) বান্দরবান জেলা পুলিশের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জেলা শহরের পাড়া মহল্লাগুলোতেও পুর্বের ন্যায় টহল পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এসব পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং এর তৎপরতা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। অভিভাবক মহলকেও আন্তরিকভাবে সন্তানদের গতিবিধি অনুসরণ করা জরুরি। পুলিশ একার পক্ষে সব সময় সমাধান করা সম্ভব নয়। মাদকের আগ্রাসন থেকে তরুণ ও কিশোরদের দুরে সরিয়ে রাখতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। বান্দরবান সদর উপজেলাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম এর ন্যায় সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সচেষ্ট হতে হবে।






