একটি প্রতারণা মামলার মিমাংসার অর্ধেক টাকা (৫ লক্ষ) হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ওই মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূর ইসলামের বিরুদ্ধেও। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে দুপুর ১২টার দিকে মামলার মিমাংসা হয় এবং টাকা লেনদেন হয় সদর মডেল থানায়।
মিমাংসার শর্ত অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নেন এএসআই নজরুল। বাকি ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় প্রতারণার শিকার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মৃধাপাড়ার মোঃ আব্দুল জলিলকে। এছাড়া মামলা রেকর্ড করার নামে দুই দফায় মোট ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও পরে ওই ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন এএসআই নজরুল। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার শুরুতে তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ (বিপি নং- 7696057927) কে। পরবর্তীতে তিনি বদলি হলে দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই নূর ইসলাম (বিপি নং- 8000072917) কে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব বদল হলেও পুরো বিষয়টির নেতৃত্ব দেন এএসআই মোঃ নজরুল ইসলাম (বিপি নং- 8403073370)।
এমনকি মিমাংসার ৫ লক্ষ টাকা ভাগাভাগির কথাও বাদীকে বলা হয় বলে দাবি করেন আব্দুল জলিল।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিমোড় (মৃধাপাড়া) এলাকার মৃত আফসার আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল (৩২) ‘কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আদিয়ারপাড়া এলাকার মোঃ রাজু (৪০) ও মোঃ নাজু (৩৩) এর সঙ্গে পরিচিত হন। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাদের সঙ্গে ১৮ লক্ষ টাকায় চুক্তি হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন জলিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেন। কিন্তু পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সদর মডেল থানায় মামলা করেন (মামলা নম্বর- ০৭, তারিখ- ০৪-০১-২০২৬ ইং)।
অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা নিতে প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরে এন্ট্রির জন্য আরও ১০ হাজার টাকা নেন এএসআই নজরুল। দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর অবশেষে মামলা রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ থেকে আসামি রাজু ও নাজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসে। এরপরই সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার শর্তে সমাধান হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুরো টাকা ভুক্তভোগীকে না দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নিজেদের কাছে রেখে দেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। নিরুপায় হয়ে অর্ধেক টাকা নিয়েই বাড়ি ফেরেন আব্দুল জলিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই নজরুল বলেন, বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা করায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। তবে অর্ধেক টাকা নেওয়ার প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এসআই নূর ইসলাম জানান, তিনি কেবল আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছেন, সমঝোতা বা টাকা লেনদেন বিষয়ে অবগত নন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।





