ভূমি অধিগ্রহণ শাখা বা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কানুনগো (উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার) পদটি বর্তমানে ১০ম গ্রেডের গেজেটেড পদ [৩, ১২]। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, কানুনগো পদের মূল বেতন স্কেল ১৬,০০০—৩৮,৬৪০ টাকা [৩, ১০]। মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, এবং অন্যান্য ভাতাদি প্রাপ্য হন। ২০ বছর চাকরি করার পরে বেতন বোনাস মিলিয়ে আয় ৮০ লাখ টাকা ও হবে না। পারিবারিক হিসাবটা বাদই দিলাম অথচ ১০তম গ্রেডের সরকারি এ কর্মচারীর সম্পদের পরিমাণ শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাবে।বরিশাল শহরের রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের ১টি ফ্লাট, রাজধানীর বহুতল ভবনে রয়েছে ১টি ফ্ল্যাট,নিজ জেলা পটুয়াখালীতে রয়েছে কোটি টাকার অধিক জমি।
সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ৪০ হাজার টাকা হলেও কীভাবে এ সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব? হয়তো আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় তিনি এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন!
বলছি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সাবেক কানুনগো মোঃ মকবুলের হোসেনের কথা, তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরেও ১ বছর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন পরে তাকে ডিসি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখায় বদলি করা হয়।বর্তমানে তিনি ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এল/এ শাখায় কানুনগো হিসেবে কর্মরত আছেন এর আগে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত ছিলেন।বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকা দিয়ে তিনি এই সম্পদ গড়েছেন।
তিনি তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে বিলাশবহুল জীবনযাপন করছে যা একজন ১০ গ্রেডের কর্মচারীর পক্ষে অসম্ভব।
তার এই দুর্নীতির মধ্যে লুকিয়ে আছে আরো একটি ভয়াবহ তথ্য তিনি সবসময় ধর্মীয় পোশাক এবং দাড়ি টুপি পড়ে থাকতেন যার ফলে কাউকে বুঝতেই দিচ্ছেন না এর আড়ালে নিজে অপকর্ম করে যাচ্ছে।
বরিশাল, পটুয়াখালী এবং ঢাকাতেও তার নিজস্ব ফ্লাট রয়েছে যেখানে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে বর্তমানে বসবাস করছে শুধু তাই নয় এছাড়াও পটুয়াখালীতে এবং নিজ গ্রামে রয়েছে তার কোটি টাকার সম্পত্তি, তার সমস্ত সম্পত্তি হিসাব অনুযায়ী সে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার মালিক।একজন ১০ম গ্রেডের কর্মচারী, যেহেতু তিনি এখনো অবসরে যাননি তারপরেও সে কিভাবে এত সম্পত্তির মালিক হন।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি পরে তার কাছে তার দৃশ্যমান সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে তার পরিচিত এক সাংবাদিক ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে চা-নাস্তা করার জন্য অনুরোধ জানায়,পরবর্তীতে জানা যায় তিনি সাংবাদিকদের এভাবেই ম্যানেজ করে থাকেন তার পরিচিত কিছু সাংবাদিকের সুপারিশের মাধ্যমে।পরবর্তীতে তাকে ফোন দিলে সে আর ফোন রিসিভ করেনি।এ বিষয়ে দুদক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুদক তার দুর্নীতি,ঘুষ,কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা দিয়ে সম্পদ ক্রয়ের হিসাব তলব করবে।







