চরফ্যাশনে ইউনিয়ন যুবদল নেতাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় আন্ত: উপজেলা ফেরিঘাট ইজারাদার আবদুল গনি সিকদারের ছেলের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত বেলায়েত সিকদার (৩৫) কে চরফ্যাশন উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় ইজাদার আবদুল গনি সিকদার বাদী হয়ে যুবদল নেতা আল আমিন সিকদারসহ ৬জনকে বিবাদী করে বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল চরফ্যাসন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল দুপুরে মাদ্রাজের সামরাজ স্লুইজ ঘাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ইজারাদার আবদুল গনি সিকদার জানান, দীর্ঘদিন যাবত তিনি আন্ত:উপজেলা ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে ট্রলারের মাধ্যমে মনপুরা উপজেলার চরনিজাম কালকিনি হতে চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজের সামরাজ স্লুইজ ঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে আসছেন। এবছরও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে তিনি ঘাটটি ইজারা পেয়েছেন।
মঙ্গলবার ইজাদার গনি সিকদারের ছেলে চালক বেলায়েত সিকদার মনপুরা উপজেলার চরনিজাম কালকিনি হতে যাত্রী নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজের সামরাজ স্লুইজ ঘাটে পৌছলে দুপুরে স্থানীয় যুবদল নেতা আল আমিন সিকদারের নের্তৃত্বে ফারুক খলিফা, জাকির হোসেন মিয়াজী, সফিক গোলদার সহ অন্য বিবাদীরা ২লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন।
বেলায়েত সিকদার বৈধ ভাবে ঘাট ইজারা পেয়েছেন জানিয়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাতেই তারা বেলায়েত সিকদারের উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন সিকদারের মুটোফোন ০১৭৭৭৮২৯৮১০ নম্বরে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। অভিযুক্ত যুবদল নেতা জাকির হোসেন এর কাছে এর সত্যতা জানতে ০১৭১৩৯৬৪৩৭৪ নম্বরে কল করলে তিনি জানান, আমাদের পক্ষ এবং অভিযোগকারী আব্দুল গনি শিকদারের পক্ষ বিগত বছরগুলোতে যৌথভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এই বছরও যৌথভাবে এর ইজারা নেওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি সিনিয়র নেতৃবৃন্দেরও এরকমের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা ছিল। তবে আব্দুল গনির শিকদার তাদের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে আমাদেরকে বাদ দিয়ে তারা নিজেরা মনগড়া ভাবে ইজারা নিয়ে নতুন বছরে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করতে চেষ্টা করে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। আমি ঘটনাস্থলে ওই সময় ছিলাম না। তবে আমাদের পক্ষের অন্যান্য লোকদের সাথে অভিযোগকারী আব্দুল গনি শিকদারের পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়েছে। চাঁদাবাজির ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট।
এই ঘটনায় চরফ্যাশন থানা অফিসার ইন চার্জ খলিলুর রহমান জানান, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






