জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক বাচ্চুর বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (সকাল ১১টা) কড়াইবাড়িয়া বাজারে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে মোট ৭৬৫ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্যানেল চেয়ারম্যান অতিরিক্ত ৭১ জনের একটি ভুয়া তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন।
সরকার জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রত্যেক জেলের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়।
তালতলী খাদ্যগুদাম থেকে মোট ৮৩৬ জন জেলের নামে ৬৬.৮৮০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত ৭৬৫ জন জেলেকে ৬১.২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি ৭১ জনের নামে বরাদ্দকৃত ৫.৬৮০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের ৬ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইউপি সদস্য পিযুষ কান্তি হাওলাদার। বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান মোল্লা, পুলুকেশ চন্দ্র মজুমদার ও ফয়সাল হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, “নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে। এখানে আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই মানববন্ধন করা হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





