ডিমলায় সীমাহীন ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায়

 নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এক রাতের প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ফসলের মাঠ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছেন।
সম্প্রতি আকস্মিক ঝড়ের সঙ্গে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হলে মুহূর্তেই ভুট্টা, বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ধ্বংস হয়ে যায়। ঝড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়ে গাছ, ভেঙে যায় ঘরবাড়ি। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের চালা ছিদ্র হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গবাদিপশু বিক্রি করে ঘর মেরামতের চেষ্টা করছেন।
উপজেলার গয়াবাড়ী, বালাপাড়া, ডিমলা, খগাখড়িবাড়ী, পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, নাউতারা ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। মাঠজুড়ে এখন শুধু ভাঙা ফসলের স্তূপ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা ও বোরো ধানের ক্ষেত।
অপ্রত্যাশিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ডিমলার কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সময়মতো সরকারি সহায়তা, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল, বীজ ও সার সহায়তা এবং ঘর পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা না মিললে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সামনে আরও দুর্বিষহ সময় অপেক্ষা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সরকারিভাবে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। বর্তমানে তারা সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহিদুল ইসলাম, আক্কেল আলী, মনোয়ারা বেগম, শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মুহূর্তেই ভুট্টা গাছ ভেঙে পড়ে, মোচা নষ্ট হয়ে যায়। বোরো ধানের ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে পাতাগুলো ছিঁড়ে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় এখন তারা চরম সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হোক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর ভুট্টা, ১০ হেক্টর গম, ১২ হেক্টর মরিচ এবং ৩ হেক্টর শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল  বান্না বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত সহ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে ।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন