নীলফামারীর ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক অসহায় দিনমজুর দম্পতির বসতভিটার জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার কে এম সুজা উদ্দিন পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে থাকায় গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
এ সময়ের মধ্যে গত ৯ জুন ডিমলা সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরেজা বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের বসতভিটার ৭ শতক জমি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া দাতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। জমিটির হাল (বিএস) খতিয়ান নং-১৯৮৯ এবং দাগ নং-১২ নুরেজা বেগমের রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে।
একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২৬৬৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি জনৈক মুক্তা বেগমকে দাতা সাজিয়ে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করেন। এতে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা তাদের একমাত্র বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ২৫ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। জমিটির হাল রেকর্ডও আমার স্ত্রী নুরেজা বেগমের নামে রয়েছে। অথচ ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দলিল বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীঃলন হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে গত ৯ জুন স্থানীয় লোকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আমার কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা রেজিস্ট্রির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।
উল্লেখ্য যে, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবরেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুম গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৭ কর্ম দিবসে ১ হাজার ৩৬৪ টি দলিল সম্পাদন করেছেন এর মধ্যে গত ৯ জুন গভীর রাত পর্যন্ত ৩৯০ টি দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেছেন। তার সম্পাদিত অধিকাংশই কবলা দলিলের তফশীল সরকারী খাস, অর্পিত ও দেবত্তরের যেটাতে সরকারী স্বার্থ জড়িত রয়েছে। যার কাগজ পত্র জাল ও ভুয়া। ভুয়া কাগজে দলিল সম্পাদনের কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দুর্নীতিবাজ এই সাব রেজিস্টারের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কর্মকাণ্ডের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।






