প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে ফিরিয়ে আনতে হবে হারিয়ে যাওয়া খাল-বিলের প্রাণ। একসময় যে খালগুলো ছিল কৃষকের সেচের প্রধান অবলম্বন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ এবং গ্রামীণ জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর অনেকই দখল, ভরাট ও অবহেলায় হারিয়ে ফেলেছে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ। এর ফলে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় আলমডাঙ্গায় সরকারি খাল স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি উদ্যোগে পুনঃখননের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহীনুর আক্তার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় আহমেদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আকতার জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, ইটভাটা মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ কেবল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বশিরুল আলম, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, খাল কেবল পানি প্রবাহের একটি মাধ্যম নয়; এটি কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলোর নাব্যতা নষ্ট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তাই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে এ মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে। ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি জলাবদ্ধতা কমবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননকে শুধু একটি উন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ত আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় অংশগ্রহণকারীরা আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি খাল পুনঃখননে জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে, কৃষকের মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, কমবে জলাবদ্ধতা এবং সবুজ, সমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব আলমডাঙ্গা গঠনে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।






