অপরাধীদের আনাগোনায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাই-প্রতারণা

অপরাধীদের আনাগোনা বাড়ছে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। প্রতিদিনই হাসপাতালে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার মতো বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিয়মিতভাবে হাসপাতাল এলাকা থেকে গুলি, চাকু ও দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের আটক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাসপাতাল চত্বরে অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কও বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মাঝে। বুধবারও হাসপাতাল চত্বরে পরপর দুটি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে রোগী দেখাতে এসে তাসলিমা খাতুন নামে এক নারী দুই হাজার টাকা খুইয়েছেন। তিনি জানান, মহিলা মেডিসিন বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য বহির্বিভাগের টিকিট সংগ্রহের পর ডাক্তারের চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ব্যাগে হাত দিয়ে দেখেন ভেতরে রাখা টাকা নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হাসপাতালের পুলিশ বক্সে গিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন। একই দিনে বেলা ১১ টা ১৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের এক্সরে রুমের সামনে থেকে একটি ধারালো বার্মিজ চাকুসহ মহিন উদ্দিন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। আটক যুবক যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর কাঁঠালবাগান এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, সকালে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে হাসপাতালে প্রবেশ করেন তিনি। তবে তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে নিরাপত্তা প্রহরী ও পুলিশ সদস্যরা তাকে তল্লাশি করেন। এ সময় তার ব্যাগ থেকে একটি ধারালো বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ১০ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে গুলি ও ধারালো অস্ত্রসহ রাসেল মুন্সি নামে একজনকে আটক করে হাসপাতাল পুলিশ। সন্ধ্যায় তৃতীয় তলার করিডোরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল ওই ব্যক্তি। তার চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। ৮ ডিসেম্বর যশোরের জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের সময় আনোয়ারুল এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। ঘটনার দিন রাত ৮ টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ৫ ডিসেম্বর প্রতারণার মাধ্যমে এক দিনমজুরের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে পালানোর সময় হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মোতালেব নামে এক প্রতারককে আটক করে। ২ নভেম্বর চুরি হওয়া ব্যাগ, নগদ টাকাসহ হাসপাতাল থেকে জান্নাত নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। দুপুর ১২ টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া তিনটি ব্যাগ ও নগদ দুই হাজার ১০৪ টাকা উদ্ধার করা হয়। ৯ নভেম্বর হাসপাতালে রোগী সেজে চেইন চুরির সময় ঝর্ণা ও জুলেখা নামে দুই নারী চোরকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের দলেননগর গ্রামের আছিয়া চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে সিসিইউ ইউনিটের ৬ নম্বর কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পেছনে থাকা ঝর্ণা হঠাৎ তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আছিয়া দ্রুত তা টের পেয়ে ঝর্ণাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ঘটনার পরপরই হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঝর্ণাকে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ঝর্ণা তার সহযোগী জুলেখার নাম প্রকাশ করলে সোহেল রানা তাকেও আটক করেন। ১২ নভেম্বর যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষারত এক রোগীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরির চেষ্টাকালে তানিয়া ও বন্যাকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা। সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বহির্ভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই নারী এক রোগীর ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর থেকে ২৫০০ টাকা বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়াত বলেন, হাসপাতালে রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন