সুনামগঞ্জের ডিসি অপসারণ প্রসঙ্গে নাছির চৌধুরীর লিখিত অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা  ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত  অভিযোগ প্রেরণ  করা হয়েছে । অভিযোগে তাঁকে ‘বিশেষ মহলের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী  সাবেক সাংসদ  নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর প্রেরিত  লিখিত অভিযোগে তিনি এই দাবি জানান। অভিযোগের অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে নাছির উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ডিসি সুনামগঞ্জে জামায়াতের ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনে’ সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগের অন্যতম চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জেলার ফসল রক্ষা বাঁধে (পিআইসি) রেকর্ড ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। নাছির চৌধুরীর দাবি, দিরাই-শাল্লা এলাকায় পিআইসি কমিটিতে অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। পরিবর্তে জামায়াত প্রার্থীর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা প্রকল্পের অর্থ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে জামায়াত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘জুলাই বিপ্লবের’ যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার নামে সরকারি অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে বলেও নাছির চৌধুরী অভিযোগে উল্লেখ করেন।

বর্তমানে চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, শিশির মনিরের পছন্দের প্রার্থীদের পাস করিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ম্যানেজ করার একটি ‘সূক্ষ্ম কারচুপির’ নকশা করা হয়েছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এই বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হলে নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য কমিশন দায়ী থাকবে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার অফিশিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ এবং ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকেও এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন