শিল্পাঞ্চলের সাভার আশুলিয়ার জামগড়া, রুপায়ন মাঠ, নাভানা মাঠ ও ভাদাইল এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথেই এসব এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায় ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও কিশোর গ্যাংয়ের মারামারি। বিশেষ করে হাজারো গার্মেন্টস কর্মী কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নিরাপত্তাহীনতায় পোশাক শ্রমিকরা
সরেজমিনে ফুলবাড়িয়ার পানপাড়ার এলাকার এক নারী পোশাক শ্রমিকের সাথে কথা বললে জানাজায় ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরতে খুব ভয় লাগে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বখাটেরা ওত পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই বেগ মোবাইল আর টাকা ছিনিয়ে নেয়। এখন আর একা চলাচলের সাহস পাই না।”
অন্য এক শ্রমিকের ভাষ্যমতে, এলাকাগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা দিন দিন বাড়ছে। তুচ্ছ কারণে শুরু হওয়া ঝগড়া-বিবাদ অনেক সময় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “নিরাপত্তা না থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সাভার ব্যাংকলোনী ইমান্দিপুর মজিদপুর আনন্দপুর ফুলবাড়িয়া পানপাড়া হেমায়েতপুর ঋষিপাড়া হরিণধারা যাদুরচর আমিনবাজার সালিপুর জামগড়া ও ভাদাইল এলাকার বিভিন্ন গলিপথ ও মাঠকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের খুচরা কেনাবেচা। মাদকের এই সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয় কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, যা সরাসরি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশি টহল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নাজমুল বলেন, সাভার আশুলিয়ার পুরো এলাকায় মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের ও যুবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদনশীল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই প্রশাসন আরও দৃশ্যমান ও কঠোর ভূমিকা পালন করুক।”
অন্যদিকে,সাভার ও আশুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছিনতাই ও মাদক দমনে ইতিমধ্যেই টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, কেউ নির্দিষ্ট তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার-আশুলিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান, শক্ত নজরদারি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। শিল্পাঞ্চলের প্রাণখ্যাত শ্রমজীবী মানুষগুলো যাতে নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারেন, সেটাই এখন এলাকাবাসীর মূল প্রত্যাশা।






