মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দবির হোসেন এবং ফরমান আলী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ জনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় আহতরা হলেনঃ
ফরমান গ্রুপেরঃ
আসমাউল হুসনা (২৬)মুকুল হোসেন (৪৫),আসিফ হোসেন (২৫),তকুল হোসেন(৫০),শরিফুল ইসলাম (৪৩),
নেঙ্গার আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম (৫০), সামসদ্দীনের ছেলে আইনাল হক (৬০)
বরকত আলী (৪০) আনসারুল ইসলাম (৬৫)
ও তার স্ত্রী শাহানার বেগম (৬০)
দবির হোসেন গ্রুপেরঃ
সাহারবাটি গ্রামের কড়ইতলা পাড়া এলাকার ইমন আলীর স্ত্রী রিয়া খাতুন (৪০),
মাঠপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মিঠুন আলী (৩২), উজ্জ্বল হোসেন (৩৮), মুন্তাজ আলী (৫০), তরিকুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম(৪৩), চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম(৬০)।
আহতদের মধ্যে দবির হোসেন গ্রুপের লোকজনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং ফরমান আলী গ্রুপের লোকজনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বিএনপি নেতা দবির উদ্দীন ও তার লোকজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্বাস আলীর বাবা ও মাকে মারধর করে আহত করে। এর প্রতিবাদ জানান সাহারবাটি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ফরমান আলী। এতে দবির উদ্দীনের লোকজন ফরমান আলীকেও মারধর করে। এর জেরে সোমবার রাতে ফরমান আলী ও দবির উদ্দীনের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয়পক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতেই ঘটে আহতের ঘটনা।
বিএনপি নেতা দবির হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছর যাবৎ স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাছ আলী আমাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন জুলুম চালিয়ে আসছিলেন। তারা আমাদের গোয়ালের গরু পর্যন্ত ধরে নিয়ে জবাই করে খেয়েছে । মাঠের ফসল তুলতে দেয়নি। আমরা সেই মারের বদলে মাইর নেবো। এরই জের ধরে হামলা।
এদিকে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাছ আলী জানান, ৫ তারিখের পর থেকেই দবির উদ্দীন আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বেশ কয়েকবার তাদেরকে চাঁদা দিয়েছি। আজকে আবারো চাঁদা চেয়েছে। এবার না দেওয়ায় দবির, করির, মুন্তাজ, সাদ্দাম, শুকুর, মিনা সহ আমার বাবা এবং মায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে আমার বাবার অবস্তা আশংকা জনক হওয়ায় মেহেরপুর সদর থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়েছে।
জামায়াতের নাম প্রকাশে অনিশ্চুক, এক নেতা জানায়, আমরা সকলকে নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডাকলেও আওয়ামিলিগ নেতা আব্বাস বসতে রাজি হলেও, বিএনপির নেতা দবির বসতে রাজি হয়নি। অতপর জামায়াতের নেতাদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের উপর একে একে হামলা করে।
সকালের সংঘর্ষর পর আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে। সেখানেও মারামারি সৃষ্টি হলে পুলিশ দুপক্ষে মানুষদের সরিয়ে দিলেও। রাতে আবারো দুইপক্ষে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনির কঠোর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় । বর্তমানে এলাকায় একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। যেকোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ রয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।






