মাদক ও ধর্ষন ইস্যুতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলামকে ধুয়ে দিলেন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী,গোয়ালন্দের সন্তান অ্যাডভোকেট মোঃ মকিম মন্ডল।
শুক্রবার সকাল ১০ টায় গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে আয়োজিত দেশের আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ওই আইনজীবী বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, দেশে একের পর এক যে পৈশাচিক শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে তার অন্যতম কারন মাদকের বিস্তার। মাদকাসক্ত কোন ব্যাক্তির নুন্যতম হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।সে পশু হয়ে যায়। তাই সে এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা ঘটাতে পারে।
যে কারনে আমি নিয়মিত মাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে লেখালেখি করে থাকি।
অ্যাডভোকেট মকিম বলেন, কয়েকদিন আগে গোয়ালন্দের এক আত্মস্বীকৃত মাদক কারবারির বিষয়ে জানতে ওসিকে ফোন করি। তিনি আমাকে বলেন,তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আমাকে তার কাছ থেকে আগে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয় আইনে কাভার করে না।
মকিম ক্ষোভের সাথে বলেন,ওসি আমাকে আইন শেখায়, কিন্তু তার জানা উচিত একজন আইনজীবি একজন ওসির চেয়ে আইনের বিষয়ে অনেক জ্ঞান রাখে।
তিনি বলেন, মাদক কারবারি ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে যদি কোন ব্যবস্থা না নিতে পারেন তাহলে ওসির দায়িত্ব নিয়েছেন কেন,ওই পদটাতো একটা পবিত্র আমানত। তিনি আরও বলেন, যদি কাজ করতে না পারেন তাহলে, দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে পদ্মা নদীর হাওয়া খান এবং কাতল মাছ দেখেন।
মকিম মন্ডল আরো বলেন, কয়েকদিন আগে গোয়ালন্দে এক স্কুল ছাত্রীকে দুই যুবক মিলে ধর্ষণ করে।এলাকাবাসী একজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পুলিশ অপরজনকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি। ওই দুই যুবক ধর্ষণের আগে মাদক সেবন করে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ হতে জানতে পারি।
তিনি বলেন,আমার দুঃখ লাগে ওই ধর্ষনের ঘটনায় কেউ কেউ ওই ধর্ষিতা ছাত্রীর দোষ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। আপনারা কেউ এটা করবেন না। ধর্ষিতার দোষ খুঁজতে গিয়ে আপনারা কেউ ধর্ষককে প্রশ্রয় দেবেন না।
শিশু রামিসার বাবার বিচার না চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনাঙ্গনের একজন মানুষ হিসেবে আইনের প্রতি,বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার এই আস্থাহীনতা আমার কাছে অত্যন্ত লজ্জার। আমি শিশু রামিসার ধর্ষন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল অ্যাডভোকেট মকিম মন্ডলের সাথে গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি সুমন মোল্লার ফোনালাপের এক পর্যায়ে সুমন মোল্লা দৌলতদিয়া যৌনপল্রীতে তার বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ডটি মকিম মন্ডল ফেসবুকে শেয়ার করলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। দল হতে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে এক যুবকের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক একটি অডিও বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কিন্তু মাদক আইন অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্যের কারনে কাউকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ নেই। স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ব্যাপারে পালিয়ে থাকা অপর আসামীকে গ্রেফতারের জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।






