নেশার টাকার জন্য শ্বশুরের বাসায় বাবা ছেলে চুরি

নেশার টাকার জন্য শ্বশুরের বাসার স্বর্নলংকার লুট করার অভিযোগে পিতা-পুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ মার্চ) রাতে নেত্রকোনার মদন পৌরসভার শ্যামলী রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন,  ময়মনসিংহের গফরগাঁও এর মধ্যে বাজার এলাকার বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বছর দেড় এক আগে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পৌরসভার বাসিন্দা অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ে কে বিয়ে করে বরুনের চন্দ্র কর্মকারের ছেলে তরুণ । বিয়ের দুই মাস পরেই তরুণ তার স্ত্রী ও পিতাকে নিয়ে শ্বশুরালয় মদন চলে আসে। কিছুদিন পরেই শ্বশুরের বাসার পাশে শ্যামলী রোড এলাকায় অনু মিয়ার বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তরুণের পিতা মদন পৌরসভার মাতৃ জুয়েলার্স নামক একটি কাজ করে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে নেশার টাকার জন্য তরুণ ও তার বাবা বরুণ মিলে শ্বশুর অমূল্যর বাসা থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা স্বর্নলংকার লুট করে নিয়ে যায়। রবিবার রাতে পুনরায় নেশার টাকার জন্য শ্বশুরের ঘরে স্বর্নলংকার আনতে গেলে ধরা পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়। তবে স্বর্নলংকার নেওয়ার বিষয়টি পিতা-পুত্র  স্বীকার করে।
এ বিষয়ে বরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন,’ টাকার চাপ ছিল। তাই স্বর্নলংকার নিয়ে বিক্রি করে দিছি। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি। ‘
এ বিষয়ে তরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন,’ আমি আগে নেশা করতাম, কিন্তু এখন আর ইয়াবা খাই না। আমার বাবা শ্বশুরের ঘর থেকে স্বর্নলংকার চুরি করছে আরো এক সপ্তাহ আগে। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি।’
এ ব্যাপারে অমূল্য চন্দ্র দাস জানান, ‘ আমার মেয়ের জামাই নেশাগ্রস্ত। বিয়ে পর মেয়ের অলঙ্কার সব বিক্রি করে দিছে৷ এখন আবার নেশার টাকার জন্য  বাপ- বেটা মিলে আমার ঘরের স্বর্নলংকার লুট করে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি থানায় মামলা করবো।’
জানতে চাইলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ‘ এই ঘটনায় পিতাপুত্র দুইজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন