দুই দিনের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড রৌমারীর ভুট্টা ক্ষেত, হতাশায় কৃষকরা

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী জনপদের রৌমারীতে টানা দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ভুট্টা চাষিরা।  হঠাৎ আসা এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ভুট্টা ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় ফলনের আশা ভেঙে কৃষকদের মনে নেমে এসেছে গভীর হতাশা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ার আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু গত দুই দিনের প্রবল ঝড়ো বাতাস সেই আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ক্ষেতজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ ভুট্টা গাছ অনেক জায়গায় মাটিতে হেলে পড়েছে, আবার কোথাও পুরো গাছ ভেঙে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ে ভুট্টা গাছগুলো একদিকে হেলে পড়ে আছে। অনেক ক্ষেতেই গাছের গোড়াসহ উপড়ে গেছে। ফলে কৃষকদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, “এবার ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ার আশা করেছিলাম। অনেক টাকা খরচ করে চাষ করেছি। কিন্তু দুই দিনের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে লোকসান পোষাবো তা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।”
আরেক কৃষক নুর ইসলাম জানান, “ঝড়ের আগে ক্ষেতগুলো খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু এখন প্রায় অর্ধেক ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এতে ফলন অনেক কমে যাবে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুট্টা গাছ যখন বড় হয়ে শিষ ধরার সময় থাকে তখন ঝড়ো বাতাসে গাছ হেলে পড়লে ফলনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শিষ ঠিকভাবে বড় হতে পারে না, ফলে কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন থেকে বঞ্চিত হন।
রৌমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কিছু ভুট্টা ক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত আংশিক হেলে পড়েছে সেগুলোতে কৃষকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো যায়।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা সহায়তা প্রদান করা হলে তারা কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
রৌমারীর কৃষি নির্ভর মানুষের জীবনে ভুট্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। তাই হঠাৎ এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এখন সবার প্রত্যাশা—সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এজন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সুনজর দরকার। এবিষয় রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন দুইদিনের ঝরে ভূট্রার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে এবং উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে যাতে কৃষকরা পোষে উঠতে পারে সেদিকে চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন