চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের সংঘর্ষের দশ দিনপর সুটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে ও বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমান (৪৫) ঢাকার কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
এরআগে, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন পরবর্তী রেশা রেশির জের ধরে গত (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপির অতর র্কীত হামলায় উভয় পক্ষের অন্ততো ৬ জন গুরুতর আহত হয়। সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমান ও তার ছোট ভাই হাফিজুর রহমান (২৫) এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে তাদেরকে উন্নত চিৎকিসার জন্য ঢাকার নেওয়া হয়। ছোট ভাইকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে (রবিবার ১ মার্চ) রাত ১টার দিকে সেখানে মারা যান। এবং বড় ভাই মফিজুর রহমান কে কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে নেওয়া হলে অবনতি হয় এবং গতকাল মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাদ্যহয়।
সেদিনের সংঘর্ষে অন্যান্য আহতরা হলেন,জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫৫) মাহফুজ(২৮), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন(৬৫) আহত হন।
জিবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন জানায়, নির্বাচনের একদিন পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারী হাসাদহ স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান সুটিয়া গ্রামে যান, সে সময় ওই গ্রামের জামায়াত কর্মী সোহাগ, হাফিজসহ গ্রামবাসী তার ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরই জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ ব্যপারে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা (১২ই ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে তারেক রহমান সরকার গঠন করেছে শুনে সকাল বেলা। জামায়াতের নীরঅপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলাকাবাসী প্রতিহত করলে একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। জীবননগর থানা পুলিশ পরিস্থিতি সাভাবিক করলেও আবাও নেতাকর্মী ওপর হামলা করে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তিনি আরও বলেন,আমি এই নেক্কার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুক পদক্ষেপ নিয়ে মফিজুর রহমানের ও তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিচারের দাবি জানায় ।
জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সোলাইমান শেখ জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সুটিয়া গ্রামে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান ও জামায়াতের হাসাদাহ ইউনিয়নের কর্মীদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমিরের ভাই নিহত হয় ও আহত হয় অনেক নেতাকর্মী । এবং সকলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানা যায়। কিন্তুু জামায়াতে ইউনিয়ন সভাপতি অবস্তা আশংকা জনক বলে আমরা জানতে পেরেছিলাম এবং আজ মৃত্যুবরণ করেছে শুনতে পেরেচি । অফিসার আরো জানান, জামায়াত নেতার মৃত্যু জের ধরে আর কোন সংঘর্ষ যাতে না হয়। তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে মৃত মফিজুর রহমানের প্রথম জানাযার নামাজ ঢাকায় গতকাল ১০ মার্চ বিকেল সোয়া ৩টায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকায় জানাযায় নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
এছাড়া জানাযা নামাজে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এডভোকেট রুহুল আমিন ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি মো. জয়নুল আবেদীন প্রমুখ সহ আরো অনেক নেত্রীবৃন্দু।
মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা শেষে লাশ নিয়ে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গার দিকে রওনা হয় স্বজন ও জেলা জামায়াতের আমীরসহ দায়িত্বশীলরা। এরপর চুয়াডাঙ্গা মর্গে থেকে ময়না তদন্ত শেষে নিজ গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়।





