চাটখিল সোমপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ ও সিনিয়র প্রভাষক বেতন ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সোমপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন ও সিনিয়র প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমকে বেতন ভাতা দেওয়ার সরকারি নির্দেশ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই বিষয়ে মহাপরিচালক মাউশি, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ও গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সারা দেশের কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহ সাধারণ শিক্ষকদের অনেককে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে একটি কুচক্রী মহল। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ কর্মস্থলে গেলে হেনস্তা ও প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়। ফলে তারা কর্মস্থলে না গিয়ে আত্মগোপনে থাকেন। সারাদেশে এ সকল ঘটনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, শিক্ষা সচিব, মহা-পরিচালকগণ সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ একাধিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন যাদেরকে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে তারা সবাই চাকুরির মেয়াদকালীন সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বেতন ভাতা পাবেন মর্মে ৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করেন এবং বিধি মোতাবেক এই ধরনের শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য ইএফটি প্রক্রিয়া চালু করা হয়। এই নির্দেশের পর সারাদেশের ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ তাদের বেতন পেতে থাকেন। কিন্তু সোমপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন ও সিনিয়র প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম অজ্ঞাত কারণে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দে, শিক্ষক প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন বাদল সহ একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁরা বেতন ভাতা পাচ্ছে না।
এদিকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ বাবদ শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফি ২৩০০ টাকা থাকলেও তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০০-৫০০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ করেছেন  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। কলেজের প্রভাষক ও গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন বাদল অতিরিক্ত ফি আদায় ও ২ জন শিক্ষক বেতন ভাতা না পাওয়ার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই বিষয়ে শিক্ষক নাছির উদ্দিন বাদল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। শিক্ষকদের বেতন ভাতা না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এই ব্যাপারে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন কাজে যোগদান না করলে আমি কীভাবে তাকে বেতন ভাতা দিব?
এই বিষয়ে অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক আমরা চাকুরিতে বহাল আছি। নতুন করে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন