আলমডাঙ্গায় বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি খরচে নির্মিত ‘বীর নিবাস’ নামের বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছেলে ইসমাইল হোসেন সেরেগুল একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। বাড়িটি নির্মাণের শুরু থেকেই প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘন, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধার জন্য সরকারের নেওয়া ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলীর নামে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পর ছেলে ইসমাইল হোসেন সেরেগুল এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অসচ্ছল, ভূমিহীন বা প্রান্তিক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এই ঘর পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু লস্কর আলীর পরিবার আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল। তার ছেলে একজন সরকারি চাকরিজীবী, নিজ গ্রামে তাদের আলিশান বাড়ি রয়েছে এবং চুয়াডাঙ্গা শহরেও জমি ও বাড়ি আছে।
প্রকল্পের শর্তানুযায়ী, উপকারভোগীর নিজের নামে ন্যূনতম দেড় শতাংশ বসতভিটা থাকতে হবে অথবা তিনি খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্য হবেন। কিন্তু এই ঘরটি লস্কর আলীর নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করা হয়নি। এটি নির্মাণ করা হয়েছে বাড়াদি গ্রামের সায়েরা খাতুন নামের এক নারীর জমিতে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগটি উঠেছে বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, সায়েরা খাতুনের জমিতে ঘরটি নির্মাণ করার পর, সেটি তার কাছেই ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার একটি মৌখিক চুক্তি করেন ভূমি কর্মকর্তা ইসমাইল। চুক্তি অনুযায়ী সায়েরা খাতুন ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধও করেছেন।
বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বীর নিবাসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে এবং সেখানে কেউ বসবাস করছেন না। এই বিষয়ে জমির মালিক সায়েরা খাতুন প্রথমে কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, ঘর নির্মাণের সময় আমাকে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে জমি বিনিময় করা হবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো জমি বিনিময় হয়নি। পরে ঘরটির জন্য আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং আমি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি অর্থে নির্মিত ‘বীর নিবাস’ কোনোভাবেই অন্য কারও কাছে বিক্রি, হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তার উত্তরাধিকারীরা কেবল এখানে বসবাসের সুযোগ পাবেন। কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকলে বা বাড়িটি পরিত্যক্ত হলে, এর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি সরকারের কাছে চলে যাবে।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন সেরেগুল বলেন, আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের শ্যালিকার জমিতে ঘরটি নির্মাণ করেছি, কারণ তিনি আমাকে ভাই বলে ডাকেন। বাড়িটি বিক্রি করা হয়নি এবং তার কাছ থেকে কোনো টাকাও নেওয়া হয়নি। কেউ টাকা দেওয়ার কথা বললে তাকে আমার সামনে আসতে বলুন।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন