আগুন মুখা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ: জনরোষের মুখে গলাচিপা পানপট্টি প্রকল্পের কাজ বন্ধ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় আগুনমুখা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী এই নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউ মোকাবিলায় যে ধরনের মজবুত কাজ প্রয়োজন, বাস্তবে তার কিছুই হচ্ছে না। তাদের মূল অভিযোগ হলো, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাজ এলাকায় কোনো রোলার দেখা যায়নি। মাটি ফেলার পর তা যথাযথভাবে কম্প্যাকশন না করে শুধুমাত্র এক্সকাভেটরের বাকেট দিয়ে চেপে সমান করা হচ্ছে, যাকে স্থানীয়রা “আইওয়াশ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ভাঙা ও পরিত্যক্ত ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বালু ও খোয়া ফেলার সাথে সাথেই অনেক জায়গায় ব্লক দেবে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্তমানে যেভাবে আলগা মাটির ওপর তড়িঘড়ি করে জিও-ব্যাগ ও ব্লক বসানো হচ্ছে, তাতে এই বাঁধ ছয় মাসও টিকবে না এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে।

অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল দাবি করেছেন যে, কাজের মান নিয়ে কোনো আপস করা হচ্ছে না। তার ভাষ্যমতে, নদীর জোয়ারের কারণে মাটি সারাক্ষণ ভেজা থাকে, আর ভেজা মাটিতে রোলার চালানো কারিগরিভাবে সম্ভব নয় বলেই বিকল্প পদ্ধতিতে মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি ও বালুর স্তর ঠিক করার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কম্প্যাকশন টেস্ট করেই ব্লক বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে ৪ ইঞ্চি বালু, এরপর ইটের খোয়া এবং জিও-শিট বিছিয়ে নিয়ম মেনেই ব্লক স্থাপন করা হচ্ছে। তবে আগুনমুখার খরস্রোতা রূপ নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান যাচাই করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন